কুমিল্লায় আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রেমশালা ও যৌনাচারের আখরা,

অসামাজিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে
কুমিল্লায় আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রেমশালা ও যৌনাচারের নিরাপদ কেন্দ্রে পরিণত

কুমিল্লার অসামাজিক কর্মকান্ডে আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রেমশালা ও যৌনাচারের নিরাপদ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দিনে বা রাতে হোটেলগুলোতে নির্বিঘেœ চলছে যৌনাচার। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দিন দুপুরেই এ সব হোটেলে ঘন্টা চুক্তিতে কক্ষ ভাড়া নিয়ে বিনোদন করছে। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা আলেখারচর বিশ্বরোড় মাস্টার প্লাজার ২য় তালায় হোটেল তানিম ও ঝাগুরঝুলি এলাকার কুমিল্লা হাইওয়ে হোটেলের ২য় তলায় হোটেল নীলপদ্মসহ ৫/৬টি আবাসিক হোটেলে রমরমা দেহ ব্যবসা আর অনৈতিক কর্মকান্ডের আসর চলছে। এসব হোটেল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ-অসামাজিক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রতিদিন কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পুরুষদের আগমন ঘটছে। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় এসব অনৈতিক ব্যবসা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ ও তাদের অনৈতিক কাজের সুযোগ দিয়ে মাদক ও নারী ব্যবসা চলছে। এর ফলে পেশাদার ও অপেশাদার সবমিলিয়ে কুমিল্লার যৌনকর্মীর সংখ্যাও দিনদিন বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের চোখের সামনে এ ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ডে অনেকটা হতাশা প্রকাশ করছেন কুমিল্লাবাসী।

জানা গেছে, কুমিল্লার আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার বা কর্মচারীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী এবং ওইসব দেহ ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যের কারণে সব হোটেলে অভিযান চলে না। হোটেলের লোকজন খদ্দেরদের নারী ও মাদক এনে দেয়। সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাক ও বোরখা পরে নারীরা আসে। অভিজাত পরিবারের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরাও হোটেলে সময় কাটায়। খদ্দের অনুসারে প্রতি ঘণ্টা রুম ভাড়া নেয়া হয় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। আবার সারারাত কাটালে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দিতে হয়। অনেক হোটেলের রুম মাদক সেবন ও জুয়ার জন্যও ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে। হোটেলের লোকজন মাদকসেবীদের চাহিদা অনুসারে ইয়াবা, মদসহ বিভিন্ন নেশাদ্রব্য এনে দেয়। দারিদ্রতা ও কর্মসংস্থানের অভাবে নারীরা এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লা নগরীতে অপেশাদার যৌনকর্মী বলতে বোঝায়, যারা একটি নির্দিষ্ট পেশায় যুক্ত থেকে বিশেষ চাহিদা পূরণে দেহ বিক্রি করে। এছাড়াও নগরীতে রয়েছে বেশ কিছু ভ্রাম্যমাণ যৌনকর্মী। নগরীসহ আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে অভাবী মেয়েরা যৌনকাজে লিপ্ত হচ্ছে। তারা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শহরে আসে এবং কাজ শেষে বাড়ি ফিরে যায়। এসব যৌনকর্মীদের অধিকাংশই জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু সামাজিক কারণে তারা যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে না। আবাসিক হোটেল ছাড়াও নগরীর অনেক বাসাবাড়ি, ছেলে বা মেয়েদের মেসে এ ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড চলছে। দিনের বেলা কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা হোটেলের রুম ভাড়া নিয়েছে। শহরে আগমনের উদ্দেশ্যের জায়গায় লেখা থাকে চিকিৎসা। কিন্তু এক রুম একদিনে একাধিকবার ভাড়া দেওয়ার চিত্র দেখা গেছে। কুমিল্লা শহরের বসবাসরত আশা (ছদ্মনাম) জানায়, এ পেশায় একবার আসলে আর ফেরত যাওয়া যায় না। কারণ হোটেলের লোকজন পরে ভয় দেখায়। আমি কুমিল্লায় কয়েকটি হোটেলে যাওয়া-আসা করি। অনেক সময় অসুস্থ থাকলেও কোন কিছু করার থাকে না। বাধ্য হয়ে কাজ করতে হয়।
এব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসীরা অভিযোগ জানান, স্থানীয় কতিপয় প্রশাসনের সদস্যের সাথে রয়েছে তাদের সখ্যতা, তা ছাড়া এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোকও জড়িত রয়েছে যার কারনে আমরা ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ দিতে পারি না। এলাকাবাসীর অনুরোধে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এঅবৈধ ৫/৬টি আবাসিক হোটেলগুলোতে অনৈতিক দেহ ব্যবসা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার করায় দাবি জানান।

(সূত্রঃসাইফুল ইসলাম শিশির
কুমিল্লা )

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*